tfm.ink /

espresso house #1

2026-08-15

বসে আছি। হুট করে দেখি গত পাঁচ মিনিট ধরে কিছুই করতেছি না। একদিকে তাকায়ে আছি। কী কী যেন ভাবছিলাম। জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার মত। বাংলা ভাষায় অনেক শব্দের মানে জানি না। line of sight এরকম একটা শব্দ। দৃষ্টিরেখা? দৃষ্টিরেখায় অন্য কোনো মানুষ থাকলে হয়ত ভাবত তার দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু আমি কিছুই দেখতেছিলাম না। সবই ঘোলা ঘোলা।

default এর বাংলাও জানি না। সব মানুষের কান্না করার একটা স্বভাবজাত(?) জায়গা থাকে। নিজের ঘরে বালিশ চাপা দিয়ে। শাওয়ারহেডের নিচে দাঁড়ায়ে। ওয়াশরুমের ফ্লোরে বসে। কোনো স্থির জলরাশির পাশে দাঁড়ায়ে। হতে পারে নদী, হ্রদ, কিংবা শান্ত সাগর। আছড়ে পড়া ঢেউয়ের পাশে। ওভারব্রিজের উপর দাঁড়ায়ে। বাসের জানালায় মাথা লাগায়ে। খুব বাতাসের মাঝে। তপ্ত রোদের নিচে হাঁটতে হাঁটতে। সাউনাতে।

ছোটবেলায় আমি বেশ কান্নাকাটি করতাম। ইনজেকশন দিলে। আম্মু মাইর দিলে। এই দুইটাই মূল কারণ আসলে। শারীরিক ব্যথা ছাড়া আমার জীবনে তেমন কিছু নিয়েই কোনো ভয় লাগে না। কিছুতে কিছু যায়ই আসে না, ভয় লাগবে কেন? কিছু যায় না আসায়, বেশি খুশিও কখনো লাগে না। মনের ভেতরে সবই পরিমিত। একারণে নাটক আমার অনেক পছন্দ। চেতনা খানিক বিসর্জন দিলে অনেক নাটক হয়, তাই সেটাও ভালো লাগে। তবে এই ভালো লাগাতেও খুব একটা কিছু যায় আসে না। হলে হলো, না হলে না হলো।

pascal's wager নামে একটা ব্যাপার আছে। আমি এটা নিয়ে অনেক ভয় পাই। কারণ, জাহান্নামে অনেক ফিজিক্যাল টর্চার করবে। আমি খোদা হলে যদি দেখতাম আমার সৃষ্টি এরকম ভয় থেকে ফাংশন করে, আমার নিজের উপর অনেক লজ্জা লাগত। কিন্তু, খোদা সম্ভবত মানবীয় গুণাবলীর উর্ধ্বে কিংবা non-existent। ছোটবেলায় অবশ্য কোথায় যেন পড়েছিলাম, অবিশ্বাসী বান্দার সবচেয়ে বড় শাস্তি আসলে মানসিক। সমস্ত বিচার শেষ হবার পর খোদা বেহেশতবাসীদের তার চেহারা দেখাবেন এবং সেটা হবে তাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। নরকগামীদের সবচেয়ে বড় কষ্ট এটাই হবে যে সারাজীবন যার অবাধ্যতা করে এসেছে, তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানবে কিন্তু কোনোদিন দেখতে পারবে না। আমার কাছে এটা খুব হাস্যকর মনে হয়।

অনেকে কষ্ট পেয়ে নীরবে নিভৃতে কাঁদে। আমার খুব অবাক লাগে। ওরা সম্ভবত আমার মায়ের সবচেয়ে ভালো বাচ্চা হত। আমি কখনো শব্দ না করে কাঁদতে পারি না। তাই শুরুতে মাইর খেতাম যে অপরাধ করেছি, সেটার জন্য। তারপর মাইর খেতাম, মাইর খেয়ে কেন কাঁদলাম সেটার জন্য। বাংলাদেশের অর্ধেক বাবা-মা সম্ভবত এমন। শুরুতে এটা খুবই অযৌক্তিক মনে হত, তাই প্রতিবাদ করতাম। তাই তিনদফা মার খেতাম — মুখে মুখে তর্ক কেন করলাম? পরে বাস্তবতা মেনে নিয়ে দুইদফাতেই তুষ্ট থাকতে চেষ্টা করতাম।

তারপর একটা দিন আসল। দিনটা আমার মনে আছে আবছা আবছা। তারিখ বা কারণ কিছুই মনে নাই। সেদিন মার খেয়ে মনে হলো, কান্না করার কী আছে? জাস্ট গিলে ফেললাম ব্যাপারটা। বড় নাপা এক্সট্রা যেভাবে গিলে ফেলে ওভাবেই আরকি। সেই যে কান্না বন্ধ হলো, বহুদিন আর আসলোই না। ছেলে বড় হচ্ছে, মার খাওয়ার হারও কমে গেল। খুব একটা ইনজেকশন দেয়ার অপরচুনিটিও আর আসে না। কোভিডের ইনজেকশন দেয়ার সময় কান্নার বদলে চেঁচালাম। গত মাসে দাঁতে ফিলিং করানোর সময় লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া দেয়ার সময় শুধু আঙুল শক্ত করে ছিলাম। আগের ডেন্টিস্ট গুড বয় বলেছিল, ইনি কেন বলল না সেটা ভেবেই বরং বেশি কষ্ট লেগেছে।

দেশে থাকতে শেষ কেঁদেছিলাম সম্ভবত দু হাজার আঠারোর ফেব্রুয়ারিতে। একটা কুইজিং কম্পিটিশনের বিভাগীয় পর্যায়ে হেরে গেছি। মন খারাপ। বাসায় আসার পথে আম্মুকে জড়ায়ে ধরে রাস্তার মাঝে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেললাম। ওইবার হেরে যাওয়ার আগে প্রচুর অহংকার হয়েছিল। দর্প চূর্ণ হওয়াতেই সম্ভবত নিজেকে একটু নীচ (নাকি নিচ?) মনে হয়েছিল। পরে আব্বু আম্মু আদর করেছে। প্রিয় খাবার খাওয়াতে নিয়ে গেছে। প্রশংসা করেছে। ঠিক হয়ে গেছে।

ঢাকা ছাড়ার আগে আগে আরেকবার exception হয়েছে। দিল্লি থেকে ঢাকা এসেছি। এক সপ্তাহ পরে হেলসিঙ্কি যাবো। আম্মু অসুস্থ। প্রচুর কেনাকাটা বাকি। প্যাকিং বাকি। বন্ধুদের সাথে দেখা কখন করবো? তিনমাস ধরে যার সাথে প্রতিদিন কথা বলি, তার সাথে দেখা কখন করবো ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মাঝে আম্মু খুবই খারাপ ব্যবহার শুরু করলো। আমাকে দেখতেই পারে না। সবসময় রাগী রাগী গলায় কথা বলে। বকা দেয়। আমি বুঝতে পারি, ছেলে চলে যাচ্ছে কিন্তু উনি অসুস্থ থাকায় কিছুই করতে পারছেন না। উনার নিজের উপর বিরক্তি আমার সাথে বাজে ব্যবহারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। তবে আমার কিছুই বোধ হচ্ছে না। মাঝে মাঝে খালি মনে হয় আমি একটা বাজে সন্তান। নাহলে মন খারাপ কেন হবে না? আব্বু আর নানু সম্ভবত আম্মুকে কিছু একটা বোঝালো। শেষ দুদিনে আম্মু নিজেকে খানিক সামলে আমার সাথে ভালো করে কথা বলার চেষ্টা শুরু করলো। কী আর কথা হবে। সারাদিন বাইরে থাকি হাবি যাবি কাজ আর শপিং নিয়ে। রাতে বাসায় এসে ঘুমাই। আম্মু নিজের ঘরে শুয়ে থাকে একা একা। আব্বু একবার আমাকে বলে আম্মুকে সময় দিতে। আরেকবার আম্মুকে বলে আমার সাথে কথা বলতে। আমি মাঝে মাঝে শুনি আম্মু কাঁদে। আমার কিছু বোধ হয় না। নিজেকে কেমন সৎ সন্তান মনে হয়। যাওয়ার আগের দিন আব্বু তাদের রুমে ডাকলো। গিয়ে দেখি আম্মু মুখের উপর ওড়না দিয়ে রেখেছে। সম্ভবত কাঁদছে। আমার এক বান্ধবীর মতে ছেলেরা সিরিয়াস কনভারসেশন করতে পারে না। তাদের সবসময় একটা comedic relief প্রয়োজন হয়। কথা সম্ভবত সত্যি। আমি খানিক হেসে পরিস্থিতি হালকা করার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। আব্বু সায় দিল। কিন্তু আম্মুর রাগ পড়ে না যেন আমি ইচ্ছা করে চলে যাচ্ছি। আসলেও তো ইচ্ছা করেই যাচ্ছি। আব্বু ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন শুরু করলো আমি কীভাবে আমি বাচ্চাবেলায় আব্বুর বুকে ঘুমিয়ে পড়তাম। কথা বলতে বলতে আব্বুর গলা যখন ধরে আসে, ব্যাপারটা খুবই বাজে। খানিক পরে দেখি আমি বালিশে মুখ চেপে হু হু করে কান্না করছি। ঠিক কেন এমন হলো জানি না। আমার কাছে মনে হয় না খুব একটা ভালোবাসার জায়গা থেকে ব্যাপারগুলো হয়। ভালোবাসা আসলে কী?

মেয়েরা সাধারণত প্রচুর কাঁদে। আমার স্যাম্পল সাইজ অবশ্য খুব একটা বড় না। এটা gendered fact হিসেবে বলি নাই, বরং observational data হিসেবে বলেছি যেটা বায়াসড হওয়ার সম্ভাবনাই হয়ত বেশি। মাঝে মাঝে আমার মনে হত, ওরা বুঝি নিয়ম করে কাঁদে। স্কিনকেয়ারের মত। মেকওভারের মত কান্নারও একটা মাপ আছে। পাগলিনীর মত কান্নাকাটি করলে চেহারা ফুলে যায়। তবে অল্প কান্না করলে মুখে কী সুন্দর একটা গ্লো আসে। এত স্নিগ্ধ দেখায়। আমার কাছে দুঃখের সৌন্দর্যের স্বরূপ এটাই। আমার এরকম ঘনঘন কান্না পায় না। পেলেও মানুষের সামনে কাঁদতে অনেক লজ্জা লাগবে। সম্ভবত সোশ্যাল কন্ডিশনিঙের ফলাফল।

এখানে এসে ব্যাপারটা বেশ বদলে গেল। ঘর থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই অবারিত বন জঙ্গল কিংবা জলরাশি। মিটারের পর মিটার জুড়ে কোনো মানুষ নাই। হঠাৎ করে কেউ এসে পড়লেও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। যে বাসায় থাকি, সেখানেও সারাদিন এতই নিঃশব্দ যে নিজের নিশ্বাসের শব্দও শুনতে পাই। মাঝে মাঝে শুধু পাখির ডাক। রাত দুইটায় মাঝে মাঝে রান্না করতাম। থেরাপিউটিক লাগত। মনে হত বিল্ডিঙে ডাকাত পড়েছে। ভাগ্যিস কেউ কোনোদিন কমপ্লেইন করে নাই। কোনো কোনো দিন যায় যেদিন কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হয় না। বলি না। জীবনে কোনো পার্থক্য হয় না। সবকিছু এত অটোমেটেড। খানিক ডিস্টোপিয়ান। তবে বোবাদের জন্য ভালো। আমি প্রথম প্রথম ফিনল্যান্ডে এসে ভাবতাম, আমি কেন মূক বা পদ-প্রতিবন্ধী হলাম না। তাহলে এই accessibility feature গুলোর পূর্ণ ব্যবহার করতে পারতাম। কিন্তু বোবারা সম্ভবত ঠিকঠাক করে মোন করতে পারে না। দুঃখজনক।

চারপাশে আওয়াজ কমে গেলে, শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়। এখন অবশ্য আমি একা না। এসপ্রেসো হাউজে বসে আছি। ধানমণ্ডি নর্থএন্ডের মত জায়গা। আমার পাশে একটা মেয়ে পড়াশোনা করছে। ফিজিক্স পড়ছে। ওর স্ক্রিনে একটু আগে -1/2mv2 দেখেছি। তার পাশে আরেকটা মেয়েও সম্ভবত পড়াশোনা করছে। সে একটু আগে সিট চেঞ্জ করে এখানে এসেছে। পুরো ক্যাফে গমগম করছে। আজকে মাসের পনেরো তারিখ। শেষ স্যালারি ঢুকেছে। আমি লাইব্রেরিতে একা একা পড়াশোনা করতে গিয়েছিলাম। রিদা'র ইচ্ছা হয়েছে সে ফ্যান্সি কিছু খাবে। আমরা দুজনেই ব্ল্যাক কফি খাই। কফিতে চিনি বা দুধ মেশালে কফির অপমান হিসেবে চিন্তা করি। রিসেপশনিস্ট মেয়েটাকে আমি বললাম আমার বন্ধুর ইচ্ছা হয়েছে সে খুব ফ্যান্সি কিছু খাবে। কী নেয়া যায়? শর্ত হলো ঠাণ্ডা হতে হবে, কফি থাকতে হবে। সে অনেক বিচার বিবেচনা করে ক্যারামেল আইসড লাতে নিতে বলল। এটা নাকি drink of the month। আমিও আমার রেগুলার অ্যামেরিকানো চেঞ্জ করে এটা নিলাম। রিদা চলে গেল দাবা খেলতে। আমি রয়ে গেলাম। পড়াশোনা বাদ দিয়ে এই আলবাল লিখছি। ইমতিয়াজ মাহমুদের একটা লাইন আছে। "আন্দামান সাগরের এক একলা দ্বীপে এক সাধু যখন একটা পাখির কিচির মিচিরে অতিষ্ঠ হয়ে ভাবছিলো কিভাবে আরো একা হওয়া যায় তখন জাকার্তার জনাকীর্ণ সড়কে হাজার হাজার মানুষের ভিড় ঠেলে একটা লোক একা একা হেঁটে যাচ্ছিলো।" আমি এখন সেই জাকার্তায় হেঁটে যাওয়া মানুষের মত অনুভব করছি। হাতের লোম দাঁড়িয়ে গেছে।

আওয়াজ কমে গেলে চিন্তারা এসে কিচির-মিচির শুরু করে। ইমদাদুল হক মিলনের সুন্দরী কমলায় যখন নায়িকা নায়কের বুকে নাক ঘষে, তখন নায়কের মনে হয় কিছু একটা ভয়ংকর বিস্ফোরণ হবে। চিন্তার কিচির-মিচির বেড়ে গেলে আমার তেমন লাগে। দরকার শুধু একটা ট্রিগার। কারো ক্ষেত্রে ট্রিগার হলো সিনেমার দৃশ্য, কোনো স্মৃতি, কোনো কথা, কবিতা, গল্প, পরিচিত জায়গা, মানুষ ইত্যাদি। আমার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ে ট্রিগার হলো মিউজিক। আমার আসলে মনে নাই এখানে এসে কবে ঠিক প্রথম কান্না এসেছিল। দু হাজার চব্বিশে বোধহয়। সাড়ে ছয় বছর পর। শুরুতে এত ভালো লেগেছিল। নিজেকে বহুদিন পর একটু মানুষ মানুষ মনে হয়েছিল। কাউকে ভালোবেসে কাঁদলে যে অনেক ভালো লাগে এটা জানতাম না। ভালোবাসা কী যেহেতু জানি না, তাই মনে হলো, যদি কারো জন্য কাঁদতে পারি, তাহলে তাকে ভালোবাসি।

সময়ের সাথে সবকিছুতেই চিড় ধরে। একসময় কান্না বন্ধ হয়ে যায়। পড়ে থাকে শুধু গিল্ট। অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অসমাধানযোগ্য গিল্ট। ভালোবাসা আর গিল্টের কান্নার সুর প্রায় একই। খুবই subtle nuance। প্রথম প্রথম বোঝাও যায় না যে সুর দুটো আলাদা।

কান্নার স্বভাবজাত জায়গা নিয়ে বলছিলাম। হেলসিংকি আমার কাছে একটা টেম্পলেট শহর মনে হয়। এটাই আদর্শ। তাই আমি যেখানেই যাই কিংবা যা নিয়েই পড়ি বা দেখি সেসব মাপি হেলসিংকির সাপেক্ষে। মাঝে মাঝে নিজের মাথায় নিজের আদর্শ শহর বানাই। সেখানের বেশিরভাগ ফিচার হেলসিংকি থেকে ধার করা। খালি মানুষ আরেকটু বেশি থাকবে। অল্প থাকলেও সমস্যা নাই, সামান্য একটু এক্সট্রোভার্ট হলেই হবে।

একটু আগে বলেছিলাম, কেউ এখানে কিছুতে ভ্রুক্ষেপ করে না। কথাটা সত্য না। দু একজন করে। একদিন আমার পাশে এসে একটা মেয়ে এসে বসে জিজ্ঞেস করেছিল আমি ঠিক আছি কী না। তার পিছু পিছু আরেকটা ফিনিশ বুড়োও এসেছিল। তারপর দুজন মিলে আমার সাথে গল্প করতে চেষ্টা করেছে। মেয়েটাও নাকি একদিন কাঁদছিল। বুড়োটা এসে সান্ত্বনা দিয়েছিল তারপর থেকে নাকি ওরা বন্ধু। আমার পুরো ব্যাপারটাতে এত লজ্জা লেগেছে। খানিক seen feel করেছিলাম। কিন্তু আমি seen feel করতে চাই নাই। ওরা পরে ওদের বাসায় দাওয়াত দিয়ে চলে গিয়েছিল। আমি হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি।

এই শহর আমাকে খুবই ইউনিক একটা জিনিস দিয়েছে যেটা আমি সম্ভবত আর কোথাওই পাবো না—sauna। প্রচণ্ড গরমের মাঝে সিদ্ধ হতে হতে যখন Bon Jovi, Billy Joel কিংবা Bonnie Tyler শুনি, ঐ কিচির মিচিরগুলো চিৎকার হয়ে বের হয়ে আসে। আমার তখন খুব দৌঁড়াতে কিংবা জোরে জোরে হাঁটতে ইচ্ছা করে। আমার এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধু বলেছিল দৌঁড়ালে নাকি মাঝে মাঝে নাকি কান্না পায়, এটাকে বলে runner's cry, কিন্তু কান্না পেলে দৌঁড়ানোর ইচ্ছাকে কী বলে?

যে subtle nuance এর কথা বলেছিলাম সেটার একটা হলো উইটনেস রাখার ইচ্ছা। ভালোবাসার কান্নায় ভালোবাসার মানুষের দ্বারা seen feel করলে ভালোই লাগে সম্ভবত। মনে হয় যাক, অন্তত একজন বুঝলো। কিন্তু গিল্টের কান্নায় seen feel করলে লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু মাঝে মাঝে পাশে কেউ থাকলে ভালোই লাগে। ভার হালকা লাগে। আমার ধারণা, নিজেকে এভাবে একটা দায়মুক্তি দেয়া হয় যে হ্যাঁ প্রচুর অনুতাপ করলাম এবং একটা সাক্ষীও রইলো। মহাকাল হয়ত আমাকে নিকৃষ্ট একটা মানুষ হিসেবে মনে রাখবে না।

আমার সামনে কেউ কাঁদলে কিংবা মন খারাপ করলে আমার অনেক বিব্রত লাগে। কারণ আমি বুঝি না কী করা উচিত। ইন্টারনেটে মেসির একটা ক্লিপ পাওয়া যায় যেখানে মেসির সামনে একজন সাংবাদিক কাঁদলে সে হেসে ফেলে। নিউরোডাইভারজেন্ট আচরণ। আমিও সম্ভবত এরকমই। মাঝে মাঝে ভাবি আমার সাথে মানুষ কী আচরণ করলে ভাল্লাগতো? আমি জানি না কারণ আমি তো এসব করি না।

একদিন রিদার বাসায় রাত দুইটায় গিয়ে হাজির হয়েছিলাম যাতে কিচির মিচির থামায়ে ঘুমাতে পারি একটু। দরজা খুলে রুমে ঢোকা পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। তারপর কী যেন হলো ঝর ঝর করে কান্না এসে পড়লো। মা মরে যাওয়ার মত কান্না। কী কেন কীভাবে কিছুই জানি না। মনেও নাই। ও কিছু জিজ্ঞেস করে নাই। ভাগ্যিস করে নাই। জাস্ট বাচ্চাদের মত বুকে নিয়ে ঘুম পাড়ালো।

মাঝে মাঝে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে অপেক্ষা করার সময় যখন গান শুনি, হুট করেই চোখ ভিজে যায়। ও এসে দেখে। শুধু জিজ্ঞেস করে, are you doing fine? আমি বলি, হ্যাঁ। আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। আমরা প্রিটেন্ড করি কিছুই হয় নাই। খুবই মজাদার দিন যায়। আজকেও খুবই মজার দিন যাচ্ছে।

শুধু গ্লাসের দেয়ালের ওপারে তাকায়ে মনে হয় যদি এখনি আকাশ ভেঙে একটু বৃষ্টি নামত আর রাস্তায় হেঁটে হেঁটে আমি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার মানুষ হইতে পারতাম। বৃষ্টির ঠিকানার মতন।

life is probably an integration of unfulfilled possibilities.