tfm.ink /
today
2026-11-01 12:07 random

আজকাল শাওয়ারের সময় গান ছাড়লে কান্না পায়। কেন পায় জানি না। দুঃখ বললে ভুল হবে, কারণ দুঃখের সাধারণত একটা কারণ থাকে। এটা বরং numbness। মাথার ভেতর কিছু নড়ে না। কাজ অনেক, সামনে গ্র্যাজুয়েশন, তবু বিছানায় শুয়ে থাকি। একটা জড়তা, কিছুতেই ঝেড়ে ফেলতে পারি না।

অনুভূতিটা আমার চেনা। HSC-র আগের দুই বছর ঠিক এমন ছিল। তখনও কিছু ভাবতে পারতাম না, আর মন বারবার পালিয়ে যেত ক্লাস এইটে।

ক্লাস এইটের শেষ দিকে, JSC-র আগে, স্কুলে প্রতিদিন পরীক্ষা নেওয়া শুরু হলো। আমি এগুলো কখনো সিরিয়াসলি নিইনি। অর্ধেক লিখে বের হয়ে যেতাম। কখনো আগে শেষ করে অন্যদের উত্তর সাপ্লাই দিতাম, আর টিচার আমাকে ক্লাস থেকে বের করে দিত।

পরীক্ষার পর আমি আর আমার এক বন্ধু ক্যাম্পাসে হাঁটতাম। বিকেলের আলো পড়ে আসছে, আমরা চক্কর দিচ্ছি আর দুনিয়ার সব হাবিজাবি বিষয় নিয়ে কথা বলছি। কী বলতাম, তার বেশিরভাগই মনে নেই। শুধু মনে আছে, খুবই ভালো লাগত। I genuinely liked walking, and I liked expressing myself with someone whose mind worked like mine. এত বছরে কেউ যদি তার কাছাকাছি এসে থাকে, সেটা সম্ভবত Rida। যদিও ও বেশি বিরক্তিকর।

তখন সবে শিরোনামহীন শোনা শুরু করেছি। মনে হত “তুমি চেয়ে আছো তাই, আমি পথে হেঁটে যাই” লাইনগুলি আমাদের নিয়েই লেখা। বালখিল্যতার একশেষ।

দৃশ্যপটে একটা মেয়েও ছিল। সে বান্ধবীদের সাথে ক্যাম্পাসে হাঁটত। ক্যাম্পাসে কয়েকবার চক্কর দিতে দিতে দুই-তিনবার দেখা হয়ে যেত। আমি ভাবতাম, আমি যেভাবে তাকে খেয়াল করি, সেও কি আমাকে সেভাবে করে?

তখন জীবন সহজ ছিল, তা না। পরীক্ষা আসছে, প্রিপারেশন মোটামুটি, মাঝে মাঝে প্যানিকও করতাম। বেশিরভাগ সময় একাই থাকতাম। কিন্তু কখনো lonely লাগেনি। এখন পেছন ফিরে মনে হয়, তখন ভেতরে সবসময় কিছু একটা চলত। আকাশ দেখলে কিছু একটা অনুভব করতাম। গান শুনলেও করতাম। একটা আলাপ নিয়ে পুরো সন্ধ্যা মাথা ব্যস্ত থাকত।

এখনকার একাকীত্বটাও ঠিক মানুষের অভাব না। আমি নিজের কাছেই আর পৌঁছাতে পারি না। ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে, কিন্তু শুনতে পাই না।

ওই মেয়েটার সাথে পরে প্রেম হয়েছিল। HSC-র আগের সে সময়টায় সে পাশে ছিল। কয়েকবার বলার চেষ্টা করেছিলাম কী হচ্ছে, পারিনি। তখন ভাবতাম সে বুঝতে পারছে না। এখন মনে হয়, যেটা নিজেই বুঝি না, সেটা বোঝাতাম কীভাবে? তাছাড়া, আমার জীবন ছিল আলাদা আলাদা খোপে ভাগ করা। সে ছিল এক খোপে, এই অনুভূতিগুলো আরেক খোপে। মাঝখানে কখনো দরজা বানাইনি। Two people can be close and still drift apart, just because one of them never found the words.

এই গানটা কেমন যেন সেই পুরনো অনুভূতির কথা মনে করায়।

"কারা যেন ভালোবেসে আলো জ্বেলেছিল, সূর্যের আলো তাই নিভে গিয়েছিল।
নিজের ছায়ার পিছে ঘুরে ঘুরে মরি মিছে, একদিন চেয়ে দেখি, আমি তুমি হারা।"

প্রথমবার এটা এসেছিল স্কুল জীবন শেষ হওয়ার ঠিক আগে। এবার এসেছে স্টুডেন্ট লাইফ শেষ হওয়ার ঠিক আগে। হয়ত হাহাকারটা কখনো ক্লাস এইটের জন্য ছিলই না। হয়ত প্রতিবার জীবনের একটা চ্যাপ্টার শেষ হওয়ার আগে আসে। টের পাই সময় হাত ফসকে যাচ্ছে, অথচ এখনও বুঝে উঠিনি সময়টা আসলে কী ছিল।

সামনের জীবনটা হয়ত অনেক বেশি interesting হবে। তবু পেছনেরটার জন্য তৈরি হওয়া nostalgia‘র গভীরতা বেশি মনে হয়। হয়ত কারণ যেটা শেষ হয়ে গেছে, সেটা আর বেশি খারাপ হতে পারবে না। কিন্তু ভবিষ্যতটা পুরোটাই অজানা এবং full of pressure and expectation.

এই peak nostalgia‘র কতটা সত্যি আর কতটা আমার কল্পনায় অতিরঞ্জিত, সেটাও জানি না।

মাঝে মাঝে খোদার কাছে বিচার দিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু বিচার দিতে গেলে তো একটা অভিযোগ লাগে। আমার অভিযোগটা আসলে কী? কার বিরুদ্ধে? মানুষ খোদার সাথে কথা বলে। আমি জানি না খোদা আছেন কিনা। থাকলেও মনে হয় তাঁর সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকব, কারণ যা বলতে চাই, তার ভাষা আমার কাছে নেই।

HSC কোনোভাবে পার হয়েছিল। হয়ত এটাও হবে।